যুক্তরাজ্যে কমছে কর্মসংস্থান, ৫ বছরে সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে বড় ধরনের মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে বড় ধরনের মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং মজুরি বৃদ্ধির গতি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে দেশটিতে বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় ৪৩ হাজার কমেছে। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর পর এক মাসে এটিই সবচেয়ে বড় পতন। কর্মসংস্থানের এ নিম্নমুখী প্রবণতা ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওএনএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে মোট বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২ লাখে। কর্মসংস্থান কমার এ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়। সেবা খাতের এ ব্যবসাগুলো উচ্চ পরিচালন ব্যয় এবং ভোক্তাদের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে। ওএনএস এ পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বল নিয়োগ কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে দেশটিতে বেকারত্বের হার চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নভেম্বর পর্যন্ত গত তিন মাসের হিসাবে বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। তবে শুধু নভেম্বরের মাসিক হিসাবে এ হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশে ঠেকেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও সেবা খাতের কর্মীরা এ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আয়ের গতিও মন্থর হয়েছে। বোনাস বাদে গড় মজুরি বাড়ার হার কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। বেসরকারি খাতের নিয়মিত উপার্জনের হার আরো কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি কর বৃদ্ধি ও ন্যূনতম মজুরি বাড়ার ফলে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিয়োগদাতারা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আগামীতে সুদের হার কমিয়ে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ এ সংকটের পেছনে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসের নতুন কর নীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশ নিয়োগকর্তাদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড চলতি বছরেই সুদের হার কয়েক দফায় কমিয়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও